Header Ads Widget

ভিড়ের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে তর্ক।

 

বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাস্থল দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড়। গতকাল রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফটকের সামনে

বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে দিনভর উৎসুক মানুষের ভিড় লেগে থাকে। গতকাল বুধবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

 উৎসুক মানুষের মূল আলোচনা ছিল মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে। এ নিয়ে কয়েক দফা তর্কবিতর্কও হয়েছে।

 আবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া নানা ভিডিও নিয়েও কথা বলেছেন কেউ কেউ। এর কোনটি বানানো, কোনটি পুরোনো—এ নিয়েও তর্কবিতর্কে জড়িয়েছেন অনেকে।

তবে কমবেশি সবাই মুঠোফোনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের (যেখানে বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে) ছবি তুলেছেন, ভিডিও করেছেন।

 উৎসুক লোকজনকে স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীদের জন্যও স্কুলে প্রবেশের ক্ষেত্রে ছিল অলিখিত নিষেধাজ্ঞা। শুধু শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়।

স্কুলের সামনে উৎসুক মানুষের পাশাপাশি মাইলস্টোনের বেশ কিছু শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা গতকাল এসেছিলেন। তাঁদেরও ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

তবে স্কুলের মূল ফটকের বাইরে কিংবা স্কুলসংলগ্ন দিয়াবাড়ি গোলচত্বর ও মেট্রোরেলের ডিপোর সামনে গতকাল ভিড় ছিল না। 

সেখানে সকাল নয়টার দিকে ১০ জনের মতো পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে স্কুলের মূল ফটকের সামনে কথা হয় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কবির হোসেনের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 

‘ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না; নিহত, আহত, চিকিৎসাধীন ও নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের কোনো তালিকা স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করছে না। অথচ তাদের পক্ষেই নির্ভুলভাবে সেই তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব।’

স্কুলের পূর্ব পাশের সীমানাদেয়ালের পাশে মানুষের ভিড় ছিল প্রায় সারা দিনই। কারণ, সেখান থেকে দোতলা যে ভবনে বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, সেই ভবন দেখা যায়।

 উদ্ধারকাজের কারণে ওই ভবনের দেয়ালের ভাঙা অংশ দিয়ে উঁকি দিচ্ছিলেন অনেকে।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উৎসুক মানুষের যাওয়া-আসা, ভেতরে ঢুকতে না দেওয়া, ফটক ও ভাঙা দেয়াল দিয়ে উঁকিঝুঁকি দেওয়া অব্যাহত ছিল। সকালের তুলনায় বিকেলে উৎসুক মানুষের ভিড় বেশি দেখা গেছে।

বিকেলে স্কুলের ফটকের সামনে কথা হয় মাইলস্টোনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জায়েদ ইকবালের সঙ্গে। তার মতে, দুর্ঘটনা ও মৃত্যু নিয়ে যে যার মতো কথাবার্তা বলছে। এতে অনেক ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।

মায়ের সঙ্গে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকের সামনে অপেক্ষা করছিল শিশু আকাফ আদিয়াত। তখন সকাল সাড়ে নয়টা। কথায়–কথায় জানা গেল, আদিয়াত পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলের যে ভবনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়, সেই ভবনেই পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস হতো।

গত সোমবার দুপুরে দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে আদিয়াতের ক্লাস ছুটি হয়। এরপর বৃত্তি পরীক্ষার কোচিং করতে সে অন্য একটি কক্ষে যায়। সেখানে নিজের ব্যাগটি রেখে কয়েক বন্ধু মিলে পাশের

ভবনে অনুষ্ঠিত বইমেলা ঘুরতে যায়। বইমেলায় যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে বিকট শব্দ শুনতে পায় সে। বাইরে বেরিয়ে দেখে, যে ভবনে তাদের ক্লাস ও কোচিং হয়, সেই ভবনে আগুন জ্বলছে। ভয়ে সবাই ছোটাছুটি করছে।

আদিয়াতের মা রীনা নাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, ছেলের স্কুলব্যাগ নিতে এসেছেন। কোচিংয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের জন্য ফোনে একটি গ্রুপ আছে। সেখানে মেসেজ দিয়েছে, ব্যাগটা একজন শিক্ষকের জিম্মায় আছে।

 সে জন্য ছেলেকে নিয়ে ব্যাগ নিতে এসেছেন। কিন্তু স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীরা বলেছেন, ভেতরে যাওয়া যাবে না। অন্য একদিন এসে ব্যাগ নিয়ে যেতে। পরে তিনি ওই শিক্ষকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। সেই শিক্ষক ক্যাম্পাসে আসেননি।

পরে ছেলেকে নিয়ে রীনা নাসরিন বাসায় ফিরে যান। তাঁরা থাকেন স্কুলের কাছেই তুরাগের নয়ানগর শুক্রাভাঙ্গা এলাকায়। যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমার ছেলেকে বাঁচাইছে। বইমেলায় গিয়েছিল বলেই বাঁচল।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ